Marriage Law Bangladesh

বাংলাদেশের বিবাহ আইন সমূহ:

প্রত্যেক সাবালক নাগরিকের বিয়ে করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন অনুসারে। বাংলাদেশের আইন অনুসারে ছেলেদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারন করা হয়েছে ২১ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৮ বছর। এর কম বয়সে ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেওয়া হলে সেটি বাল্য বিবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাল্যবিবাহ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউমান রাইটসের ১৬(এ) অনুচ্ছেদের বিধানমতে, বিয়ে ও বিয়ে বিচ্ছেদ নারী ও পুরুষের একটি অধিকার৷
মুসলিম আইন:

বাংলাদেশে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন, ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইন প্রভৃতি আইনের সমন্বিত নিয়ম-ধারার অধীনে মুসলমান সমাজে আইনী বিয়ে ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। অবশ্য এই যাবতীয় আইনই ইসলামী শরীআতের অন্তর্বর্তি এমনটা বলা যায় না, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহ পরিপন্থি অনেক বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ে একটি ধর্মীয় দায়িত্বই কেবল নয়, একটি দেওয়ানী চুক্তিও। এই আইন অনুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ের জন্য কতিপয় শর্ত পূরণ করতে হয়:

  • উভয়পক্ষের ন্যুনতম বয়স
  • পারস্পরিক সম্মতি
  • দেনমোহর
  • সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক ২ জন সাক্ষী

আইনী নিবন্ধন:

আইনী শর্তানুসারে বরের বয়স কমপক্ষে ২১ এবং কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে। এছাড়া বর-কনেকে সুস্থ মস্তিষ্কের হতে হবে। অতঃপর নারী ও পুরুষকে ইসলামী বিধান অনুসারে উভয়পক্ষের সাক্ষীর সামনে একজন উকিল বা কাজীর উপস্থিতিতে সম্মতি জানাতে হয় (মুসলিম আইন ও ইসলামী শরীয়াতে কনের প্ররোচনাহীন স্বেচ্ছা-সম্মতি বাধ্যতামূলক)। দুজন সুস্থ মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক এবং একজন পুরুষের সাক্ষ্য দুজন নারী সাক্ষ্যের সমান নয়। একজন নারীকে বিয়ে করতে হলে “দেনমোহর” দেয়া বাধ্যতামূলক। দেনমোহর হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা (কিছু পরিমাণ অর্থ কিংবা সম্পত্তি), যার বিনিময়ে একজন নারী তার বিবাহিত পুরুষ সঙ্গীর জন্য হালাল বা সিদ্ধ হোন। ইসলাম ধর্ম অনুসারে এই দেনমোহর বিয়ের সময়ই সম্পূর্ণ আদায় করে দিতে হয়, দেনমোহর মাফ হয় না। মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এই দায়িত্ব পুরুষের। এই দায়িত্বের অন্যথায় ২ বছর পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনা শ্রম কারাবাস, বা ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। একজন বিবাহিত নারী তার স্বামীর সেবা এবং আনুগত্য করবেন, আর বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীর সম্পূর্ণ দেখভাল করবেন, যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন এবং স্ত্রীর সুখ-শান্তি নিশ্চিত করবেন।

 

নিবন্ধন প্রক্রিয়া:

মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন , ১৯৭৪ অনুসারে সম্পাদিত প্রতিটি বিবাহ নিবন্ধনকৃত হতে হবে এবং এ উদ্দেশ্যে সরকার বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগ করবে। নির্দেশিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক বিবাহ নিবন্ধক বিবাহ এবং তালাকের জন্য পৃথক নিবন্ধন বহি পরিচালনা করবে। বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতা, বিবাহ নিবন্ধককে প্রদেয় ফি এবং এ সম্পর্কিত অন্য যে কোন বিষয় নির্ধারণ করার জন্য মুসলিম বিবাহ এবং তালাক (নিবন্ধন) বিধি, ১৯৭৫ তৈরী করা হয়। বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে লাইসেন্স পেতে ইচ্ছুক প্রার্থীকে অবশ্যই মাদ্রাসা বোর্ড হতে আলিম সার্টিফিকেট প্রাপ্ত এবং বয়স অবশ্যই ২১ হতে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিবাহ নিবন্ধক নিয়োগের আবেদন নির্দেশিত ফরম -এ উপদেষ্টা কমিটির সচিব বরাবরে করতে হবে। বিবাহ নিবন্ধক উপদেষ্টা কমিটি নিবার্চনে সরকারকে উপদেশ প্রদান করবে। বিবাহ নিবন্ধকের চাকুরি কোন সরকারী চাকুরি নয়। একজন বিবাহ নিবন্ধক তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পযর্ন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

 

বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন এর জন্য নির্ধারিত ফি:

বিয়ের দেনমোহরের পরিমাণের উপর রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য্য হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর পরিমান ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপরে হবে না। যেমনঃ কারো বিয়ের দেনমোহর ১০,০০০ টাকা হলে ফি হবে ১০০ টাকা, ১০,৫০১ টাকা হলে ১১০ টাকা (প্রতি হাজারের অংশবিশেষের জন্যও ১০ টাকা), ১১,০০০ টাকা হলেও ১১০ টাকা, দেনমোহরের পরিমান ৫০০,০০০ টাকা হলেও ৪০০০ টাকা (সর্বোচ্চ পরিমান ৪০০০ টাকা) আবার দেনমোহর ১০০০ টাকা হলেও ফি দিতে হবে ১০০ টাকা (যেহেতু সর্বনিম্ন পরিমান ১০০ টাকা)। একজন বিবাহ নিবন্ধক একটি তালাক নিবন্ধনের জন্য দুইশত টাকা ফি হিসেবে গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের। সরকার সময়ে সময়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ফি পরিবর্তন ও ধার্য্য করে থাকে।

 

বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি:

মুসলিম আইনে রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রেজিস্ট্রেশন না করলে ২ বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে তবে বিয়েটি বাতিল হবে না। খ্রিস্টান আইনে রেজিস্ট্রেশন বিয়ের অন্যতম অংশ ফলে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম এখনো চালু হয় নি।। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা উত্তম তবে কোন কারণে তা  না হলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

 

হিন্দু বিবাহ আইন:

হিন্দু শাস্ত্রমতে, বিয়ে শুধুই চুক্তি নয়, বরং একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। হিন্দু আইন মূলত হিন্দু ধর্মশাস্ত্রেরই প্রতিরূপায়ন। শাস্ত্রানুযায়ী পুরুষদের অবশ্য পালনীয় ১০টি ধর্মীয় কর্তব্যের (Ten sacraments) অন্যতম হলো বিয়ে। হিন্দু আইনের দৃষ্টিতে বিয়ে হলো, ধর্মীয় কর্তব্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র মিলন। হিন্দু বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়া, কেননা শাস্ত্রানুযায়ী পুত্রসন্তানই বংশের ধারা বজায় রাখতে ও পিণ্ড দান করতে পারে। হিন্দু আইনানুযায়ী কনের বাবা-মা বরের হাতে কনেকে সম্পূর্ণভাবে ন্যস্ত করেন। সনাতন হিন্দু আইনে কনের সম্মতি কিংবা অসম্মতি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় না এবং বিবাহ-বিচ্ছেদ ও পূণর্বিবাহ স্বীকৃত নয়, এমনকি ধর্ম পরিবর্তন, বর্ণচ্যুতি, ব্যাভিচার কিংবা বেশ্যাবৃত্তিও বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে না। হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী যেহেতু বিয়ে কোনো চুক্তি নয়, তাই বিয়ের জন্য সাবালকত্ব বিবেচিত হয় না- এই নিয়ম সনাতন হিন্দু আইনে অনুসৃত এবং বাংলাদেশী হিন্দুগণ এই আইন মেনে চলেন। হিন্দু আইনে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধান নেই। হিন্দু আইন অনুযায়ী একজন নপুংসকও বিয়ে করতে পারে। বাংলাদেশের হিন্দু আইনে বর্ণপ্রথা রয়েছে অর্থাৎ আইনগতভাবে বর-কনেকে অবশ্যই সমগোত্রীয় হতে হবে। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে হিন্দু আইনে ‘বিধবা বিবাহ’ আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত, তবে বাস্তবে এর প্রয়োগ সচরাচর দেখা যায় না। হিন্দু আইনানুযায়ী স্ত্রীর, স্বামীর প্রতি অনুগত থাকতে হবে, আর স্বামীকে তার স্ত্রীর সঙ্গে বাস করতে ও ভরণপোষণ দিতে হবে। বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা ‘হিন্দু ম্যারিড উইমেনস রাইট টু সেপারেট রেসিডেন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাক্ট ১৯৪৬’ অনুযায়ী কিছু কিছু ক্ষেত্রে পৃথকভা বসবাস করার ও ভরণপোষণ পাবার অধিকার পান, যেমন: যদি স্বামী কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন এবং ঐ রোগ স্ত্রীর দ্বারা সংক্রমিত না হয়ে থাকে, কিংবা যদি স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং ঐ খারাপ ব্যবহার এমন হয় যে, তা স্ত্রীর জীবনের প্রতি হুমকিস্বরূপ হয়; কিংবা স্বামী যদি দ্বিতীয় বিয়ে বা পুনরায় বিয়ে করেন; কিংবা স্বামী যদি স্ত্রীকে তার সম্মতি ছাড়া ত্যাগ করেন; কিংবা স্বামী যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করেন অথবা অন্য কোনো আইনগত কারণে স্ত্রী পৃথকভাবে বসবাস ও ভরণপোষণ লাভ করার অধিকারী হন।
বিশেষ বিবাহ আইন

বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করতে চাইলে পাত্র ও পাত্রীকে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে ৷ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর দানের পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটরাইজড করতে হবে ৷ হলফনামায় অবশ্যই বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে শব্দগুচ্ছ লিখতে হবে ৷ অতঃপর সরকার অনুমোদিত বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয় ৷ উল্লেখ্য, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্যতা নেই৷

 

বিশেষ বিবাহ আইন:

১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনানুসারে যেসব ব্যক্তি খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেননি, তাদের জন্য বিয়ের একটি ধরন নির্ধারণ করা এবং যেসব বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেসব সুনির্দিষ্ট বিয়ের বৈধতা প্রদান করা সমীচীন ৷ বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী বিশেষ বিবাহ আইনের ২ ধারা মোতাবেক বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী নিম্নরূপ-

  • বিয়ের সময় বিয়ের পক্ষগণের মধ্যে কারোই কোনও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না,
  • গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে পুরুষ ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর এবং মহিলার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হতে হবে,
  • পক্ষগণ রক্ত সম্পর্কে বা বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেন না, যাতে তাদের একজনের ওপর প্রযোজ্য আইন দ্বারা ওই বিবাহ অবৈধ হতে পারে৷

বিয়ে যেভাবে সম্পন্ন করতে হবে বিশেষ বিবাহ আইনের ১১ ধারা মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে রেজিস্ট্রার এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদানকারী তিনজন সাক্ষীর সম্মুখে৷ উল্লেখ্য, পক্ষগণকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীগণের উপস্থিতিততে বলতে হবে ‘আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসঙ্গত স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম ৷’   ১১ ধারার বিধানাবলী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে [১৮ ডিএলআর (১৯৬৬) পাতা ৫০৯] ৷সহ-উত্তরাধিকারিত্বের ওপর কতিপয় বিয়ের ফলাফল হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্মাবলম্বী কোনও যৌথ পরিবারের কোনও সদস্যের এ আইন মোতাবেক বিয়ে হলে অনুরূপ পরিবার থেকে তার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে (২২ ধারানুসারে) ৷ বাংলাদেশে বিশেষ বিবাহ আইন বাংলাদেশের কোনও মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন নন বা তাদের একজন যে কোনও এটি বা অন্য ধর্মে বিশ্বাসী তাদের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করতে হলে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন উপযুক্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক ৷ এক্ষেত্রে একজন আইনজীবী কর্তৃক হলফনামা সম্পাদনের পর ওই হলফনামা নোটারাইজড করে বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সমুদয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে ৷

 

 

বিবাহে সম্পত্তি প্রদানের অধিকার ও শাস্তি:

সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে একজন নারী ১৯৩৯ সালের মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বাতিল অনুযায়ী প্রতিকার পেতে পারে। এই আইনে মেয়েটির অধিকার সুরক্ষিত আছে। কোন নারীর ১৮ বছর পূর্ণ না হলে এবং তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে তিনি মুসলিম বিবাহ বাতিল আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে দুটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-

  • মেয়েটি যদি স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করে অর্থাৎ সহবাস না করে।
  • মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং ১৯ বছর পার হওয়ার আগে বিয়েকে অস্বীকার করতে হবে।

 

দন্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৩৬৬: যে ব্যক্তি কোন নারীকে তার ইচ্ছার বিরু্দ্ধে –

  • কোন ব্যক্তিকে বিয়ে করতে বাধ্য করা যেতে পারে এ রূপ অভিপ্রায়ে বা
  • তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিয়ে করতে বাধ্য করার সম্ভাবনা রয়েছে জেনে কিংবা
  • তাকে অবৈধ যৌন সহবাস করতে  বাধ্য বা প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে অথবা
  • তাকে অবৈধ যৌন সহবাস করতে  বাধ্য বা প্রলুব্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে জেনে

 

অপহরণ বা হরণ করে সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডে দন্ডনীয় হবে। এবং যে ব্যক্তি কোন নারীকে এই বিধিতে বর্ণিত অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সাহায্যে বা বাধ্যবাধকতার অন্য কোন উপায়ে, অন্য কোন ব্যক্তির সাথে

  • অবৈধ যৌন সহবাস করতে  বাধ্য বা প্রলুব্ধ করা যেতে পারে এই উদ্দেশ্যে অথবা
  • তাকে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌন সহবাস করতে  বাধ্য বা প্রলুব্ধ করা যেতে পারে জেনে তাকে কোন স্থান হতে গমন করতে প্রলুব্ধ করে সে ব্যক্তিও একই দন্ডে দন্ডিত হবে।

 

 

বাল্য বিবাহের শাস্তি:

কোন নারীর ১৮ বছর পূর্ণ না হলে এবং তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে তিনি মুসলিম বিবাহ বাতিল আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী আদালতে বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে দুটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-

  •  মেয়েটি যদি স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করে অর্থাৎ সহবাস না করে।
  •  মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং ১৯ বছর পার হওয়ার আগে বিয়েকে অস্বীকার করতে হবে।

আইনে- শিশু বিবাহকারীর শাস্তি, বিয়ে সম্পন্নকারীর শাস্তি, অভিভাবকের শাস্তি এই তিন ধাপে বাল্যবিবাহের কথা বলা হয়েছে। শাস্তির পরিমান হলো ১মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ১ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় প্রকার দন্ড। শিশু বিবাহকারী পুরুষ, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনকারী কাজী, অভিভাবকসহ বাল্যবিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই শাস্তি ভোগ করবে। এক্ষেত্রে কোন নারীকে কারাদন্ড দেয়া যাবে না।

 

বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে যে সকল প্রতিষ্ঠান সহায়তা প্রদান করে থাকে:

ঠিকানা ঠিকানা
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রিয় কার্যালয় সুফিয়া কামাল ভবন, ১০/বি/১ সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০,  ফোন-৭১৬৯৭০১, ফ্যাক্স ৮৮-০২-৯৫৬৩৫২৯,ই-মেইল-mahila@bd.com

ওয়েব- www.mahilaparishad.org

মহিলা আইনজীবী সমিতি, ৪৮/৩, মনিকো মিনা টাওয়ার, পশ্চিম আঁগারগাঁও, ঢাকা, ফোন-৯১৪৩২৯৩ই-মেইল- www.bnwla.org.bd

 

 

আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ৭/১৭, ব্লক-ই, লালমাটিয়া ঢাকা, ফোন-৮৩১৫৮৫১, ৮১২৬১৩৪, ৮১২৬১৩৭৮১২৬০৪৭, ই-মেইল- ask@eitechco.net

ওয়েব- www.askbd.org/web

ব্লাস্ট, ১/১ পায়নিয়ার রোড/ ওয়াইএমসিএ, কাকরাইল, ঢাকা, ফোন-৮১৭১৮৫, ৯৩৪৯১২৬

 

 

কোর্ট ম্যারেজ:

কোর্ট ম্যারেজ বলে কোন কিছু আইনে নেই। যুবক-যুবতি বা নারী-পুরুষ স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একত্রে বসবাস করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে হলফনামা সম্পাদন করে তাকে, তাই কোর্ট ম্যারেজ নামে পরিচিত। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এই রুপ কোন বিয়ে যদি কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রী না করা হয় তাহলে আইনগত কোন ভিত্তি থাকবেনা। কোন এক সময় যদি এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ত্যাগ করে তাহলে আইনগত কোন প্রতিকার পাবেনা।
পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে কিংবা একশত পঞ্চাশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যালয়ে গিয়ে হলফনামা করাকে বিয়ে বলে অভিহিত করা হয়। অথচ এফিডেভিট বা হলফনামা শুধুই একটি ঘোষণাপত্র। আইনানুযায়ী কাবিন রেজিষ্ট্রী ও আকদ সম্পন্ন করেই কেবল ঘোষণার জন্য এফিডেভিট করা যাবে।
আবেগঘন সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক তরুণ তরুণীর ভুল ধারণা হয় যে, শুধুমাত্র এফিডেভিট করে বিয়ে করলে বন্ধন শক্ত হয়। কাজী অফিসে বিয়ের জন্য বিরাট অঙ্কের ফিস দিতে হয় বলে কোর্ট ম্যারেজকে অধিকতর ভাল মনে করে তারা।
যদি কাবিন রেজিষ্ট্রী করা না হয় তাহলে স্ত্রী মোহরানা আদায় করতে ব্যার্থ হবে। অধিকিন্তু আইন অনুযায়ী তার বিয়ে প্রমান করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে। তাই এই ক্ষেত্রে সঙ্গী কর্তৃক প্রতারিত হবার সম্ভাবানাই অধিক।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী যে ক্ষেত্রে একজন নিকাহ রেজিস্টার ব্যাতিত অন্য ব্যাক্তি দ্বারা বিবাহ অনুষ্টিত হয় সে ক্ষেত্রে বর বিবাহ অনুষ্টানের তারিখ থেকে পরবর্তী (৩০) ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্টারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

ধারা ৫(৪) অনুযায়ী অত্র আইনের বিধান লঙ্গন করলে দুই বছর পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
হিন্দু আইনে কী বলা আছে ?

হিন্দু বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই হিন্দু আইনের প্রথা মেনেই বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। কেননা, হিন্দু বিয়েতে এখন পর্যন্ত বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। হিন্দু বিয়েতেও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে প্রাপ্ত বয়সী ছেলেমেয়ে হলফনামার মাধ্যমে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে থাকে মাত্র, যা পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিয়ের হলফনামা একটি দালিলিক প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। প্রচলিত হিন্দু প্রথা না মেনে হলফনামা করা হলে এতে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল বলা যাবে না।

তাই বিবাহের ঘোষণা প্রদান করার ৩০ দিনের মধ্যে বিবাহ রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। অন্যতায় প্রতারিত হলে আইনি কোন প্রতিকার পাওয়া যাবেনা।

 

 

দেনমোহর:

মুসলিম আইনের ২৮৫ ধারা অনুসারে ‘দেনমোহর’ বলতে বোঝায় টাকা বা সম্পত্তিকে যা বিবাহকালে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে বিবাহের পণস্বরূপ পাবার হকদার। মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর হলো বিয়ের অন্যতম শর্ত । এই শর্ত অনুযায়ী স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিয়ের সময় কিছু অর্থ বা সম্পত্তি পায় বা পাওয়ার  অধিকার লাভ করে। দেনমোহর বিয়ের সময়ই ধার্য বা ঠিক করা হয়। এটি স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার। আইনে যে কোন অবস্থায়ই একজন স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর কাছে দেনমোহর  পরিশোধ যোগ্য। সাধারণতঃ দেনমোহর দুই প্রকার –

  • তাৎক্ষনিক দেনমোহর তাৎক্ষনিক দেনমোহর  স্ত্রী চাওয়ামাত্র পরিশোধ করতে হয়।
  • বিলম্বিত দেনমোহর বিলম্বিত দেনমোহর বিয়ের পর যে কোন সময়ে পরিশোধ করা যায়। তবে মৃত্যু বা বিয়ে বিচ্ছেদের পর দেনমোহর অবশ্যই পরিশোধ করতে হয়। তখন দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ।

দেনমোহর ছাড়া বিয়ে বাতিল না হলেও এ ধরণের বিয়ে ফাসিদ বা অনিয়মিত বা ত্রুটিযুক্ত বিয়ে। যে কোন সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হলে বা পরিশোধ করা হলে ফাসিদ বিয়েটি বৈধ বা ছহিহ্ হয়ে যাবে। দেনমোহর বিয়ের আগে, বিয়ের সময় বা বিয়ের পর নির্ধারণ করা যায়। বিয়ের সময় যদি দেনমোহর নির্ধারিত না হয়ে থাকে, এমন কি স্ত্রী কোন দেনমোহর দাবি করবে না শর্তে বিয়েটি যদি সম্পাদিতও হয়; তবুও স্ত্রীকে দেনমোহর দিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বামী কোন ধরনের শর্ত দেখিয়েই স্ত্রীকে দেনমোহর দেয়া থেকে  বিরত থাকতে পারবে না। আইনে দেনমোহর কত হবে তা নিদির্ষ্ট করে বলা নেই। তবে স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থান, পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্য যেমন- ফুপু, বোন, এবং অন্যান্যদের দেনমোহর কত ধার্য হয়েছিল তার উপর নির্ভর করে দেনমোহর ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে স্বামীর আর্থিক অবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। স্ত্রী যে কোন সময় দেনমোহর দাবী করতে পারেন। তালাক বা মৃত্যুর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে দেনমোহর চেয়ে না পায় তাহলে –

  • স্বামী দেনমোহর দিতে অস্বীকার করলে স্ত্রী তা আদায়ের জন্য আদালতে যেতে পারেন।
  • তাৎক্ষণিক দেনমোহর চাওয়ার পর স্বামী তা দিতে অস্বীকার করলে ৩ বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে তাৎক্ষণিক দেনমোহর আদায়ের জন্য মামলা করতে হবে।
  • বিলম্বিত দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে যেহেতু সময়সীমা বাঁধা নেই ফলে স্বামী বা স্ত্রী তালাক দিলে অথবা স্বামী মৃত্যুবরণ করলে পারিবারিক আদালতে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
  • তালাক হয়ে গেলে স্ত্রীকে স্বামীর দেনমোহরের টাকা বা সম্পত্তি দিতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন দেনমোহর ও ভরণপোষণ সম্পূর্ণ আলাদা।

বিয়ের সময় দেয়া শাড়ি, গয়না, কসমেটিকস্ কখনোই দেনমোহরের  অংশ নয়। বিয়ের সময় স্বামী বা তার পরিবার কর্তৃক স্ত্রীকে দেয়া উপহার দেনমোহর হিসেবে বিবেচিত হবে না। মনে রাখতে হবে যে, উপহার উপহারই; দেনমোহর নয়। অনেক সময় বিয়ের কাবিন নামায় শাড়ি, গয়নার মূল্য ধরে দেনমোহরের একটি অংশকে উসুল ধরা হয়। এটা ঠিক নয়। দেনমোহর স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেয়া কিছু অর্থ বা মূল্যবান সম্পদকে বোঝাবে, অন্য কিছু নয়। যদি কাবিননামায় দেনমোহর হিসেবে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দেয়ার কথা উল্লেখ না থাকে তবে স্ত্রীকে উপহার হিসেবে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দিলে তা দেনমোহর হিসেবে পরিশোধ হবে না। স্বামীর মৃত্যুর পর দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর ঋণ হিসেবে ধরা হবে।

  • স্বামীর মৃত্যুর পর দাফন, কাফন ও অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি শেষ হবার পর স্বামীর অন্যান্য ঋণ পরিশোধ করার সময় স্ত্রী দেনমোহর দাবী করতে পারেন।
  • স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে।
  • যদি স্বামীর উত্তরাধিকারীরা স্বামীর সম্পত্তি থেকে দেনমোহর দিতে অস্বীকার করেন তাহলে স্বামীর উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, যদি স্বামীর আগে স্ত্রীর মৃত্যু হয় এবং স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধিত না হয়ে থাকে তাহলে স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা ঐ দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী। ফলে স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা দেনমোহর পাওয়ার জন্য আদালতে  মামলা করতে পারবেন।

 

স্বামী দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি নিজ দখলে রাখতে পারেন। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় কোন স্ত্রী কোন সম্পত্তি দখলে রাখলে এবং স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী ঐ সম্পত্তির দখল ভোগ করতে থাকলে, তার দখলটি  বৈধ ও আইনসম্মত হবে। স্ত্রী দখলকৃত সম্পত্তির খাজনা, লাভ বা আয় থেকে দেনমোহরের টাকা আদায় করতে পারবে। এ সময়ে কেউ তাকে দখল থেকে উচ্ছেদ করতে চাইলে, সে দখল উদ্ধারের মামলা করতে পারবে।

 

দেনমোহর সংক্রান্ত মামলা স্থানীয় সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হবে। এ আদালত ১৯৮৫ সাল থেকে পারিবারিক আদালত হিসেবে কাজ করছে। স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করেন সে এলাকার পারিবারিক আদালতে দেনমোহর সংক্রান্ত মামলা করতে পারেন।

 

বিবাহ বিচ্ছেদ:

ইসলামে পুরুষ এবং নারী উভয়েই পরষ্পরকে তালাক দেবার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন, তবে এজন্য বিয়ের সময় কাবিননামায় তালাকে তাওফিজ-এর ক্ষমতা স্ত্রীকে দিতে হয়। তালাক দেবার জন্য মুখে তিনবার “তালাক” শব্দটি উচ্চারণ করাই যথেষ্ট হলেও আইনীভাবে তা স্বীকৃত হয় না, বিধায় তার লিখিত চুক্তির বিধান রয়েছে। কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিলে সেই স্ত্রী তার জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ হয়ে যান এবং তালাক দেবার পূর্বে স্বামীকে যাবতীয় দেনমোহর আদায় করে দিতে হয়। অবশ্য ঐ নারী যদি অন্যত্র বিয়ে করেন এবং এই নতুন স্বামী যদি স্বেচ্ছায় তালাক দেন বা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলেই শুধু তিনি আগের স্বামীর সাথে পুণরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন – এই প্রথাকে “হিলা বিয়ে” (আঞ্চলিকভাবে কোথাও “হিল্লা বিয়ে”) বলা হয়। মুসলিম আইনে খানিকটা ছাড় থাকলেও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তালাক একটি ঘৃণিত কাজ এবং তা যেন না হয়, সে ব্যপারে সাবধানতা অবলম্বন অপরিহার্য। এজন্য শরীয়াতে তিন মাসে তিনবার তালাক দেবার বিধান রাখা হয়েছে, যাতে অন্তর্বর্তি সময়ে উভয়ে, প্রয়োজনে মীমাংসা করে নিতে পারেন।

Comments

comments